অপারেটিং সিস্টেম এর কার্যাবলী

 

অপারেটিং সিস্টেম



পরিচালন ব্যবস্থা বা অপারেটিং সিস্টেম হলো মধ্যবর্তী সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারী এবং কম্পিউটারের মধ্যে অনুবাদকের বা দোভাষীর ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ এই সিস্টেমের সাহায্যেই ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। কম্পিউটারের সমস্ত উপকরণ ও কাজকর্মকে পরিচালনা করতে এটিকে ব্যবহার করা হয়। প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে রয়েছে উইন্ডোজ, লিনাক্স, এম এস ডস, ইউনিক্স। অপারেটিং সিস্টেম আরও বহু কাজ করে থাকে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, কোনও কাজ করার সময় কম্পিউটারের বিভিন্ন যান্ত্রিক ব্যবস্থা যেমন স্মৃতি, প্রসেসর ইত্যাদির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। এখানে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ কম্পিউটারকে পরিচালন করার একটি পদ্ধতি বা অপারেটিং সিস্টেমের নাম উইন্ডোজ। এটি মাইক্রোসফট কোম্পানির অবদান। উইন্ডোজ নামক অপারেটিং সিস্টেমের বিভিন্ন ভার্সন বা সংস্করণ আছে, যেগুলির সাহায্যে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয়। এই অপারেটিং সিস্টেমের বহুল প্রচলিত সংস্করণটির নাম উইন্ডোজ 7, উইন্ডোজ XP । এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, উইন্ডোজ 7, উইন্ডোজ XP-এর আগে মাইক্রোসফট তথ্য প্রযুক্তির জগতে এনেছিল উইন্ডোজ 98 নামক পদ্ধতি, আবার উইন্ডোজ 7, উইন্ডোজ XP-এর পরে আরও উন্নত পদ্ধতি হিসাবে মাইক্রোসফট নিয়ে এসেছে উইন্ডোজ 8। অবশ্যই উইন্ডোজের প্রতিটি সংস্করণ তার আগেরটির থেকে আরও উন্নত, ব্যবহারকারীর প্রতি আরও বেশি বন্ধুবত্সল এবং আরও বেশি প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। এখন দেখা যাক উইন্ডোজ (Windows) কথাটি এলো কোথা থেকে। অবশ্যই ইংরাজির উইন্ডো (Window) শব্দটি থেকে, বাংলায় যার প্রচলিত অর্থ জানলা। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে উইন্ডো হলো তার পর্দার মধ্যে একটি আয়তকার অংশ, যেখানে কোনও প্রোগ্রাম বা কম্পিউটার পরিচালনার পদ্ধতি প্রয়োজনীয় তথ্যকে উপস্থাপিত করে। বাড়িতে যে জানলা থাকে, তা দিয়ে যেমন বাড়ির বাইরের অংশটা দেখা যায়, তেমনি আয়তাকার ঐ অংশে আমরা নথি বা তথ্য দেখতে পাই, আর সেই ধারণা থেকেই কম্পিউটারের পর্দার ঐ আয়তাকার অংশটির নামকরণ করা হয়েছে উইন্ডো, বহুবচনে উইন্ডোজ।

উইন্ডোজ ব্যবহারের জন্য মৌলিক

কম্পিউটারে উইন্ডোজ নামক পরিচালন ব্যবস্থাকে কাজে লাগাতে হলে ৬টি মৌলিক উপকরণের দরকার হয়।

১) ডুয়াল কোর প্রসেসর,

২) ১ জিবি ক্ষমতাসম্পন্ন র‍্যাম,

৩) একটি মাউস,

৪) একটি মনিটর, যার মধ্যে কম্পিউটারের পর্দা থাকে,

৫) ৭ জিবি পরিমাণ খালি জায়গা সংবলিত একটি হার্ড ডিস্ক,

৬) একটি কি বোর্ড।

প্রসঙ্গত, উইন্ডোজ, XP/7 কম্পিউটার পরিচালন ব্যবস্থাকে কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করে নিতে হয়। সাধারণত উইন্ডোজ, XP/7 কে কম্পিউটারে যুক্ত করতে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে কখনও কখনও তার থেকে বেশি সময়ও লাগতে পারে। এই সময় কতটা লাগবে, তা নির্ভর করে কম্পিউটারের কাজের গতি এবং উইন্ডোজ XP/7 প্রোগ্রামের দৈর্ঘ্যের উপর।

উইন্ডোজ XP/7 এর মাধ্যমে কম্পিউটারের নানা ধরনের কাজ করা যায়। এর সব থেকে বড় সুবিধা হলো, এটি ছবির মাধ্যমে কম্পিউটারকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে। সাধারণ ভাবে উইন্ডোজ এমন একটি পরিচালনা ব্যবস্থা যা

(১) ব্যবহারকারী এবং কম্পিউটারের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে,

(২) একটি মৌলিক সফটওয়্যার হিসাবে কাজ করে, যেখানে নানা ধরনের প্রোগ্রামকে পরিচালনা করা যায়,

(৩) ছবির মাধ্যমে কম্পিউটারকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়,

(৪) প্রয়োজনে এম এস ডস-এর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে বা এম এস ডস-কে কাজে লাগাতে পারে,

(৫) কম্পিউটার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ছাপানোর ব্যবস্থা করতে পারে,

(৬) সহজে নথি তৈরির জন্য ওয়ার্ড প্যাড এবং ছবি আঁকার জন্য পেইন্ট-এর মতো উপকরণকে ব্যবহার করতে পারে এবং

(৭) একই সময়ে একই সঙ্গে অনেকগুলি উইন্ডোকে কম্পিউটারের পর্দায় দেখাতে পারে।

কম্পিউটারের পর্দায় উইন্ডোজ ছবির মতো

কম্পিউটারের পর্দায় উইন্ডোজের উপস্থিতি ছবির মতো, তার আকৃতি ও সর্বদাই আয়তকার। স্বভাবতই উইন্ডোজ ব্যবস্থার পিছনে রয়েছে চিত্রের মাধ্যমে কোনও তথ্যকে প্রতিস্থাপিত করার ধারণা। তাই কম্পিউটারে যে সব পদ্ধতিতে উইন্ডোর ব্যবহার হয়ে থাকে, যেগুলি সবই চিত্রভিত্তিক পরিচালনা পদ্ধতি। এখন এই সব পদ্ধতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো, ব্যবহৃত উইন্ডোগুলি কমবেশি একই রকমের দেখতে। একটি উইন্ডো কম্পিউটারের গোটা পর্দা জুড়ে থাকতে পারে, আবার তার থেকে ছোট মাপেরও হতে পারে। একটি কম্পিউটারের পর্দায় বহু উইন্ডোর ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। এ বার আমরা ধরে নিচ্ছি যে, একটি কম্পিউটারে উইন্ডোজ, XP/7 ব্যবস্থা বা সিস্টেম যুক্ত রয়েছে। এই কম্পিউটারটিকে চালু করার প্রক্রিয়া থেকেই আলোচনা শুরু করা যাক। আগেই বলা হয়েছে যে, কম্পিউটারটিকে চালু করতে হলে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটে পাওয়ার (power) নামক সুইচটি টিপতে হবে। মনিটরটি বন্ধ থাকলে তার পরেই তার পাওয়ার নামক সুইচটিও টিপতে হবে। এ বার কম্পিউটারটি একটু সূচনা প্রক্রিয়া বা Starting process- এর মধ্য দিয়ে যাবে, যে প্রক্রিয়ায় কম্পিউটার নিজেই ঐ সিস্টেমটির কাঠামো বা সেট আপ-কে পরীক্ষা করে নেয় এবং এই সময়ে কম্পিউটারের পর্দায় দ্রুত কিছু যন্ত্রাংশ সম্বন্ধে কথা ফুটে ওঠে এবং মিলিয়ে যায়। একেই বলে পোস্ট। এর পর উইন্ডোজ XP/7 কথাটি তার প্রতীক বা লোগোসহ কম্পিউটারের পর্দায় ফুটে ওঠে। বস্তুত, এই প্রতীকটি যেন অনেকটা ব্যবহারকারীকে স্বাগত জানায়। সাধারণত উইন্ডোগুলির অবয়ব চিহ্ন বা আইকনের আকারে উইন্ডোজ XP/7 সিস্টেমের মধ্যে ধরা থাকে। কম্পিউটারে সিস্টেমটিকে চালু করলে ঐ আইকনগুলিকে প্রাথমিক ভাবে পর্দায় দেখা যায়। যে কম্পিউটারে উইন্ডোজ XP/7 নামক অপারেটিং সিস্টেম থাকে, তাতে সিস্টেমটি চালু করলে কম্পিউটারের পর্দায় কিছু আইকনকে অবশ্যই দেখা যাবে। প্রতিটি আইকনের সঙ্গে নির্দিষ্ট নাম যুক্ত থাকে। সেগুলি হলো, মাই কম্পিউটার (My Computer), মাই ডকুমেন্টস (My Documents), রিসাইকেল বিন (Recycle Bin), ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার (Internet Explorer), নেটওয়ার্ক নেবারহুড (Network Neighbourhood)। প্রতিটি আইকন থেকেই পৃথক পৃথক উইন্ডোকে কম্পিউটারের পর্দায় খোলা যায়। ৩.২ নম্বর ছবিটি থেকে বিষয়টি বোঝা যাবে। এ ছাড়াও আরও অনেক আইকন এই সিস্টেমে থাকতে পারে, যেগুলিকে ব্যবহারকারীরা তাঁদের প্রয়োজনমতো কম্পিউটারে যুক্ত করে নেন। সে ক্ষেত্রে কম্পিউটারের পর্দায় যে দৃশ্য দেখা যাবে তা নীচের ছবির মতো।

Post a Comment

0 Comments